Category: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তুমি যেখানেই যাও

তুমি যেখানেই যাওআমি সঙ্গে আছি।মন্দিরের পাশে তুমি শোনো নি নিঃশ্বাস?লঘু মরালীর মতো হাওয়া উড়ে যায়জ্যোৎস্না রাতে নক্ষত্রেরা স্থান বদলায়ভ্রমণকারিণী হয়ে তুমি গেলে কার্শিয়াংঅন্য এক পদশব্দ পেছনে শোনো নি?তোমার গালের পাশে…

তোমার কাছেই

সকাল নয়, তবু আমার প্রথম দেখার ছটফটানি দুপুর নয়, তবু আমার দুপুরবেলার প্রিয় তামাশা ছিল না নদী, তবুও নদী পেরিয়ে আসি তোমার কাছে তুমি ছিলে না তবুও যেন তোমার কাছেই…

নীরার জন্য কবিতার ভূমিকা

এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা এ-কবিতা মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে একমুহূর্ত…

রূপালি মানবী

রূপালি মানবী, সন্ধ্যায় আজ শ্রাবণ ধারায় ভিজিও না মুখ, রূপালী চক্ষু, বরং বারান্দায় উঠে এসো ঘরের ভিতরে বেতের চেয়ার, জানলা বন্ধ দরজা বন্ধ রূপালী মানবী, তালা খুলে নাও, দেয়ালে বোতাম…

উত্তরাধিকার

নবীন কিশোর, তোমায় দিলাম ভূবনডাঙার মেঘলা আকাশ তোমাকে দিলাম বোতামবিহীন ছেঁড়া শার্ট আর ফুসফুস-ভরা হাসি দুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা, রাত্রির মাঠে চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকা এসব এখন তোমারই, তোমার…

সত্যবদ্ধ অভিমান

এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি? শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায় তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত…

কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল ___________ শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে…

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ এই কি মানুষজন্ম? নাকি শেষ পুরোহিত কঙ্কালের পাশাখেলা! প্রতি সন্ধেবেলা আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত;…

যদি নির্বাসন দাও

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো আমি বিষপান করে মরে যাবো । বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ- এ আমারই সাড়ে তিন হাত…