Category: মহাদেব সাহা

তুমি ও কবিতা

তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহুর্তেই উৎসব- তুমি যখন চলে যাও সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিবে যায়, বইমেলা জনশূন্য হয়ে পড়ে, কবিতা লেখা ভুলে যাই। তোমার সান্নিধ্যের প্রতিটি…

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি গীতিকবিতার, কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্ উদ্ভিদের কাছে…

বর্ষা বৃষ্টি কিংবা ভালোবাসার কবিতা

এই একখণ্ড সাদা কাগজের উপর মেঘ এসে যখন দাঁড়ায় তখন প্রতিটি অক্ষর হয়ে ওঠে একেকটি বৃষ্টির ফোঁটা, শব্দগুলি বর্ষাকাল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বিন্দু বিন্দু অশ্রুর কবিতা। মেঘ ভাঙতে ভাঙতে দক্ষিণ…

বন্ধুর জন্য বিজ্ঞাপন

আমি একটি বন্ধু খুঁজছিলাম যে আমার পিতৃশোক ভাগ করে নেবে, নেবে আমার ফুসফুস থেকে দূষিত বাতাস; বেড়ে গেলে শহরময় শীতের প্রকোপ তার মুখ মনে হবে সবুজ চায়ের প্যাকেট, এখানে ওখানে…

চিঠি দিও

করুণা করে হলে চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও আঙুলের মিহিন সেলাই ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও, এটুকু সামান্য দাবি চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো অক্ষরের…

আমি কেউ নই

আমি কেউ নই, আমি শরীরের ভেতরে শরীর গাছের ভেতরে গাছ, এই অনন্ত দিনরাত্রির মধ্যে একটি বুদ্বুদ; আমি মানুষের মতো কিন্তু মানুষ নই। শুধু মুখচ্ছবি মানুষের একটি আদল ছায়ার মানুষ; আমি…

একবার ভালোবেসে দেখো

তুমি যদি আমাকে না ভালোবাসো আর এই মুখে কবিতা ফুটবে না, এই কণ্ঠ আবৃত্তি করবে না কোনো প্রিয় পঙ্‌ক্তিমালা তাহলে শুকিয়ে যাবে সব আবেগের নদী। আমি আর পারবো না লিখতে…

তুমি চলে যাবে বলতেই

তুমি চলে যাবে বলতেই বুকের মধ্যে পাড় ভাঙার শব্দ শুনি- উঠে দাঁড়াতেই দুপুরের খুব গরম হাওয়া বয়, মার্সির কাঁচ ভাঙতে শুরু করে; দরোজা থেকে যখন এক পা বাড়াও আমি দুই…

তুমি যখন প্রশ্ন করো

তুমি যখন প্রশ্ন করো আমি কি তোমায় ভালোবাসি? অন্ধকারে লুকিয়ে মুখ আমি নিজের মনেই হাসি। উত্তরে কী বলবো বলো বিশ্বকোষেও হয়তো নাই, উথালপাথাল খুঁজে মরি কোথায় যোগ্য শব্দ পাই। জানো…

শুনি

আমি শুনতাম ভরা নদীর ওপর দিয়ে-আসা-ভাটিয়ালি, খোলা মাঠের ওপর দিয়ে ভেসে-আসা বাঁশি, শুনতাম আবেগময় গীতিকবিতার মতো মাঝরাতের বৃষ্টিপাত আজ শুনি টিভির ভাঙা গলা, খড়খড়ে শব্দ; আমি শুনতাম শস্যক্ষেতের গন্ধমাখা পাখির…