আজকাল তোমার নাকি জগতের ঘুম!
সমস্তরাত এপাশ ওপাশ নিংড়িয়ে
জানালার গ্রিল ধরে নাগরিকী স্তব্ধতায় দেখো!
অদূরবর্তী অচিন আগন্তুকের কালো আলখাল্লার আঁধারে
নিজেকে লুকিয়ে একটু জেগে থাকো!
চায়ের কাপে ধোঁয়ার ধনুকে পরবশ হয়ে,
মানিকের বইয়ে, সঞ্জীবের গানে
নির্ঘুম পিকাসো চোখের পলকে রাঙ্গিয়ে আরেকটু জাগো!
আমার মুঠোয় অজস্র নিদ্রাবতীরা থাকে,
আঙ্গুলে বিছানো স্বপ্নজড়িমা স্বর্ণ-মাদুর,
শিয়রে এলে বন্ধ কর চোখের দরোজা,
আমি হাত বুলিয়ে দেবার পর নাহয় ঘুমিয়ে যেও।

আজকাল নিজেকে নাকি অযত্নে রাখো!
প্রভাতসূর্যকে আলিঙ্গন করে
দক্ষিণা মৃদুজল আঁজলায় ভরে শরীর ভেজাও!
ঘাসের ক্যানভাসে মহামহিম চিত্রকরের চেতনায়
দুপুরের অলস তুলির রাঙা আঁচড় হয়ে বাঁচো।
বিকেলের সোনারোদে আচলে কুয়াশা ভরে
নূপুরের শব্দে ভেঙে দাও লজ্জার প্রতিবিম্ব।
ফিরে এসো সন্ধ্যার উঠানে, জোছনা পোহাবার আমন্ত্রনে!
কামনার সুগন্ধি মেখে রাত্রির বিছানায়
গোখুরার মতন অপেক্ষায় থেকো।
আমার বুকে সহস্র যুগের অভিলাষ,
নিঃশ্বাসে রাখা ভিসুভিয়াসের উত্তাপ!
বাহুডোরে এসে অযত্নে হারিয়ে যেও,
আমি ছুঁয়ে দেবার পরেই নাহয় বুড়ো হয়ে যেও!

 

Error: View 169b8e35d7 may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *