হাওয়াই রাত্রির রং

রাত্রির ঘোলাটে মোড়ক ডুবে
কঠিন রোদের ইশারায়—
গতিশীল প্রাণে জাগে গৃহত্যাগের বাসনা

শরমিন্দা রমণীর চোখে নক্ষত্রের আগুন
বুকে আসে বাণী, আসে না মুখে
দিনযাপনের দুঃখগুলো—ক্রান্তি ভুলে যায়

পৃথিবীর বুকে এগিয়ে যায় সর্গ
রঙবাহারে লুকায়িত থাকে উদ্ভটতত্ত্বের বুনন
পরাস্ত নদীর স্রোতে ভেসে শেষ হয় মহাকাব্যের।

 

শব্দ-কল্প-ভেদ

রূধির শিরিশে ডুবে
পাখিদের মুখে ফোটে কল্প-ভেদের ফুল,
মৃৎশিল্পের আড়ালে যেমন থাকে
উপেক্ষিত শখ আর কৃত্তিম সন্ধ্যার গান—
আমাদের শহর কিংবা গ্রামীণ জনপদে
চারুতাপে বহমান বিশৃঙ্খল ভাষার প্রথা—
অন্তর্ভেদী আকাশের বুকে দাসত্বের খোঁয়াড়,
কেউ কথা বলে, কেউ কথা ভোলে—
রাতদিন পথভোলা ময়ূরের মতো
আমরা হাঁটছি বর্ণমালার ভীড়ে।

 

ভাঙন বিষয়ক চিত্রকল্প

দগ্ধ হৃদয়ে ছায়া হয়
বিষাক্ত ধুতুরার ফুল
উথাল পাতালে ভাসে না
জগতের দক্ষযজ্ঞ—
পাতার জলে ভেসে যায়
আপেক্ষিক চোখেরা
সমাধি সলিলে হারায়
গাঙ পদ্মার ভাঙনে,
অন্দর বাহিরে বিছায়
চতুর্মুখী দুঃখের তাপে
দাঁড়িয়ে প্রথম পার্শ্বিক
কাঁদে বিরুদ্ধ কাতানে
ভাঙন ভাঙে,ভাঙন গড়ে
সমুদ্রগামী সুখ আর
অসহ্য বিরান পাথারে।

 

পাঁচতারা ধুলিফুল
(রিয়াদুল হক কে)

কখনও রাতের হাওয়া
অনাবেশে পরিত্যক্ত লাগেনি
উড়েছে ম্রিয়মান গৃহের চাওয়া—
জলডোরে ঝিঁঝিঁদের উল্লাসে
দিনে ও রাতের শরীরে
জমেছিল নিমফুল পাহারা—

পার্থিব চোখের কোটরে—
মাটির জামানা ছড়ায় সহমত,
ভীনদেশ এগিয়ে আসে যার
মর্সিয়া কলহের বিপরীতে
পাঁচতারা ধুলিফুল ফোটে তার
শরীরে ও জাদুকরী চেতনায়—

বাঁধা মনে ধানপিপাসীর সুখ
জেগে ওঠে বকুল ছাঁয়ার তলায়
প্রতীতী নতুনে ভাসে বৈভাষিক মুখ
ফেরারি পথের স্তব্ধ বনের গায়ে,
আর জলের বর্ণে মিশে যায়
তারায় জরানো আলোর খনি—

সামিয়ানায় কুশলাদি ক্রয়-বিক্রয়,
আত্মার অভয়ারণ্য হয়ে থাকে দূরে।

 

ভাবুক ঘাসেদের একান্ত আলাপ

বিমোহিত আকাঙ্ক্ষার শরীরে
নক্ষত্রেরা নদী হয়ে যায়—
দূর্বাদলের স্বপ্ন ভাসে হাওয়ার করিডোরে
শীত পাহাড়ের কোলে উঁকি দেয়
অসংখ্য কবিতার ফুল,
ভাবুক ঘাসেদের একান্ত আলাপে
জড়ো হয় ক্ষয়িষ্ণু কলহের তাপ—
খড়কুটোয় চাপ পড়ে কেউ
নিরর্বিঘ্নে আকাশে লুকায়,
আর কেউ মৃত্তিকার গর্ভে থেকেও
কথা বলে মহাকালের সহিষ্ণু আকাশে।

 

Error: View 0e2b7795t8 may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *