শব্দ নিচু করো – কোলাহল ক’রো না

শব্দ নিচু করো কোলাহল ক’রো না…
স্বপ্ন দেখতে দাও…
বিরক্ত ক’রো না…
ঘাসের সাথে জেগে আছি আমি…
আমরা স্বপ্ন দেখছি…

উদ্ভিদ স্বপ্ন দেখছে…
প্রাণি স্বপ্ন দেখছে…
জড়, দ্রব্যসামগ্রী স্বপ্নে স্থির…

পৃথিবীর ছোট ফুলগুলো গহিন স্বপ্নে বিভোর…
জোনাকি স্বপ্ন জ্বেলে যায়…
আলোয় আলোয়…
শব্দ নিচু করো কোলাহল ক’রো না।

 

প্রিয় নক্ষত্র

এভাবেই জ্ব’লে থাকতে হয়
প্রিয় নক্ষত্র !

এভাবেই নিজস্ব নিয়মে
জমাতে হয় পাড়ি
প্রিয় নক্ষত্র !

আপন কক্ষপথে
এভাবেই যেতে হয় অবারিত সুরে
প্রিয় নক্ষত্র !

অনন্য সৌরভে
এভাবেই সমগ্র পৃথিবী জাগাতে হয়
প্রিয় নক্ষত্র !

এভাবেই একান্ত রঙে অপূর্ব আবীরে
দিতে হয় তাবৎ সত্তা রাঙিয়ে
প্রিয় নক্ষত্র !

এভাবেই শাশ্বত উদ্যানে
আলোকমালায় জ্ব’লে থাকতে হয়
প্রিয় নক্ষত্র !

 

নীরব ভাষার অনুভূতিসমগ্র

কোথাও তুমি নেই আমি নেই…
হৃদপিণ্ডবিহীন উঠে আসছি কখনও-বা…
অথচ, স্পন্দিত দিনে
আমি তোমার চোখে চোখ রাখতেই
তুমি কেঁপে কেঁপে উঠতে দারুণ…!

এখন তোমার পলল হৃদয়ে শুধুই আড়ষ্টতা!
আর শত কোলাহল পণ্ড করে যায়
আমাদের নীরব ভাষার অনুভূতিসমগ্র!

তোমার অভাবে আমি ব্যথায় ব্যথায়
কালশিটে ঠোঁট উস্কো-খুস্কো কেশ
শুষ্ক কণ্ঠনালি অনিয়মক্লান্ত শরীরখণ্ড!
ঠিক রক্তেভেজা মাংসপিণ্ডের মতো…;
অথচ, তুমি যেন কিছুই বোঝো না!
কিছুই বোঝো না! কিছুই বুঝতে চাও না, তুমি!

প্রিয় বিদূষী, আমি তো জানি, তুমি সব বোঝো
সব কিছুই বোঝো তুমি তবে প্রকাশ করো না।

 

কী দারুণ সময়ের ওপর

যেন মহাকালের সময় ধ’রে এসেছি আমি;
কোনও তাড়া নেই;
মৃদু তোলপাড় অনুভব করি শুধু;

আহা, কী দারুণ সময়ের ওপর পড়ে থাকা!
ফিরে যাবো ভুলে আছি;

 

দুঃস্বপ্নের দিনরাত

পথ গেছে চ’লে;
আমি হেঁটে যাই একা;
চারদিক থেকে শেষ হয়ে গেলো পথ!

মাটিখোঁড়া যন্ত্র মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে নকল
পাহাড় বানিয়ে চলে!
আমার পথে এইসব প্রতিরোধ!

 

শীতল স্বচ্ছ জল হ’য়ে উঠলে না

আমি ধূসর ঊষর মরু হ’য়ে উঠলাম!
তুমি মরুদ্যানে সবুজ বৃক্ষ হ’লে না!
তুমি তো বালি বক্ষের শীতল স্বচ্ছ জল হ’য়ে উঠলে না!

ক্ষতি কী, যদি কন্টকশোভিত ক্যাকটাস কিংবা
ফনিমনসা হও!

আমি ভীষণ কাঁটার বিস্তার থেকে
তোমার রসাল অন্তরাল গ্রহণ করবো;
কাঁটা সমেত বাহুলগ্ন হবে তুমি;

আমি মেনে নেবো তোমার হাস্য বিষের মৃত্যুসম প্রেম!
তবু, তুমি হও…এই মরু ঘূর্ণির চারু নৃত্যরত প্রেমি…।

 

স্পর্শ থেকে কী ভীষণ ব্যবধান

কী দারুণ নক্ষত্রের মহাদূরত্বে রয়েছো জ্ব’লে!
স্পর্শ থেকে কী ভীষণ ব্যবধান রচনা করেছো!
মহাশূন্যের নীলত্বে জ্ব’লছো স্বরূপে মিটিমিটি;

কী যে বোধের দহনে ছাই হ’য়ে জমে জমে যাই!
ভঙুর করুণ চোখজোড়া জ্ব’লছে অন্ধ আঁধারে
দূর সুদূরের দিকে চেয়ে; আহা, অস্থির সমুদ্রে
কখন পড়বে ঝ’রে কার পুষ্পিকার ছোঁয়া পেয়ে!

সুবর্ণ তন্তুর মতো ছড়িয়ে পড়ছে লয়, দেখো…।

 

জ্বর সময়ে উজ্জ্বল রোদ

ভারী আরামের এক রোদ পেয়েছিলাম আজ!
শরীরে উষ্ণ উষ্ণ পুষ্প মেখে নিয়েছিলাম;
তারপর গিয়ে মগ্ন হ’লাম;
হায়, ফিরে এসে দেখি ফিরে গেছে!
চ’লে গেছে উজ্জ্বল রোদের স্রোত…!
আহা, এতো আদুরে আরামের পরশ দিয়েছিলো!

ফাগুনের রেণুর বাতাসে দারুণ রোদ
আমি এখন কোথায় পাই?
জাগিয়ে লাল গোধূলী নেমে এসেছে সন্ধ্যা!
ধুরর্! এমন ক্ষতি সহ্য হয়!

হায়, কতোকিছুই তো প্রতিদিন হারিয়ে যায় মানুষের!
জ্বর সময়ের ঘোর দুর্দশায়
উজ্জ্বল রোদ কী মোহ জাগিয়ে যায়!

 

কাছে গেলেই ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে

কাছে গেলেই সে ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে বলে দিতো আমার মনের যতো কথা;
আমার কথাগুলোর অদ্ভুত রকমের তাৎপর্য করতে পারতো সে;
সে আমার লেখা পড়তে পারতো আমাকে পড়তে পারতো আরো অধিক;

তার মুগ্ধ দু্ই চোখ আমাকে মুখোমুখি বসিয়ে রাখতো অনন্ত কাল;
তার মায়াবী দুটি হাত ক্রমশ আপন একজনে বদলে দিতো তাকে;
আমার চোখে চোখ রেখে প্রতিবার সে আমার তিয়াসা বুঝতে পারতো;
ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে সে সাগ্রহী সাগরিকা আমার তাবৎ কষ্ট বুঝে নিতো।

 

তার মুখ দেখেছি

সূর্যাস্তের সময় ওই বিস্ময় রঙে
তার মুখ দেখেছি…!
কী দারুণ বদলে গেছে হাসি
অরূপ রঙের ইশারায়!

তারপর বছর বছর
তার ছবিতে রঙিন শব্দমালা
গেঁথে দিয়েছি!

আমি তাবৎ ব্যথার কোরকে মঞ্জুলে
প্রকৃতির ভেতর থেকে
কী নিবিড় লগ্ন হ’য়েছি তার সাথে।

 

এক হৃদস্পন্দন

পাখির ওড়া তোমার কাছে কেমন লাগে?
পাখির ওড়াউড়ি ছটফটানি কেমন লাগে তোমার কাছে?
উড়েযাওয়া পাখি দেখেছো কখনও তুমি?

উড়ে যায় পাখি…!
চঞ্চু গ্রিবা শরীর টানটান; অথচ
…তখনও ছন্দ ডানায়…!

দীপিত পালকে বাতাস লেগে অবিন্যস্ত হ’তে দেখেছো…?
শতরঙ উড়েযাওয়া দেখেছো কখনও?

অতো দূর থেকে পাখনার চোয়ালের রঙ ঠিক বোঝা যাবে না;
কোনও কারুকার্য দেখা যাবে না সুদূর বিহঙ্গের;
অথচ, অবিকল এক হৃদস্পন্দন।

 

Error: View 0e2b7795t8 may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *