আমার প্রকৃতি

আমি গোলাপের দিকে চাই, দেখি তার কাঁটার দিকেও;
যেমন তাকাই সাগরের মনোরম শান্ত স্নিগ্ধতার দিকে
তেমনই তার ভয়াবহ বিধ্বংসী তুফানী রূপের দিকেও;
চেয়ে দেখি পাহাড়ের মৌনতা যেমন, তেমন অগ্নুৎপাতও;

দিবালোক নয়, নিশান্ধকারই আমার ধ্যানের প্রকৃষ্ট সময়।

আমি কবিতাকে দিতে চাই নন্দিত ভোরের সন্ধান, যেখানে
সূর্য ওঠে লাল হয়ে গভীর ঘন প্রগাঢ় রঙ নিয়ে যুগপৎ
আনন্দ আর রক্তরিরংসার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে।

আমি জীবনের পাশে প্রকৃতিকে দেখি এইভাবে, বুঝি
সে কেবল কোমল শোভন নয়, প্রায়শ রূঢ় ও বেদনাময়!…

 

দ্বিধার ওড়না

দ্বিধার ওড়না ঝুলিয়ে রেখে
কতটা এগুলে নারী?

বাজার বন্ধুরা, বিত্তহীনতার হতাশায়
কিছুই হবে না ভেবে
কাছিমের মতো মুখ তুলে থেকো না
মতিঝিলের সুুউচ্চ দালানের কারুকার্যের দিকে;

বরং, পণ্যের পূর্ণ অহংকার নিয়ে
এসো কড়া নাড়ি ভাগ্যের চিররুদ্ধ দরজায়

মূলত পৃথিবী এখন ভাতের যুদ্ধে মগ্ন…

 

 

ভূত

এত ক’রে ভূতগুলো তাড়ালাম…

এত সর্ষে ছড়িয়ে ঘরে ঘরে
প্রাণে প্রাণে ছোঁয়ালাম আগুনের পরশমণি

তবু, এ-খুঁদকুড়ো, পাটশাক, দুধভাতে
উৎপাত লেগে আছে লেগেই আছে
ছায়াহীন ভূতের;

তবে কি, সর্ষেতেই ছিল এই ভূত!

 

 

ফেরিঅলা

ডিজিটাল বাক্সেই তুলে রেখে স্বপ্ন
কে তুমি নেপথ্যে ফেরি করো শুধু?

জীবিকার চেয়ে জীবনই পরমজ্ঞান ক’রে
কী এমন অলৌকিক সুখ তুমি পাও?

কে তোমার রেখেছে এমন নাম;
আমি কি শরণ নেব তার?

আমারও স্বপ্ন আছে মুঠোমুঠো
পথে পথে ছড়ানোর দুর্লভ বীজ!

তোমার উৎসাহ পেলে সানন্দে
আমিও ফেরি ক’রে যাব এ-জীবন…

 

 

রেললাইন

বিশ্বাস ও বিজ্ঞান পাশাপাশি চলে…

অগ্রজকণ্ঠেই প্রথম এই কথা শুনেছিল
কোনো এক সুবোধ বালক সেই কবে
যখন সে মাড়ায় নি পিতৃনিষেধের চৌকাঠও

সেই থেকে অপলক চোখে তার বিশ্বাস ও বিজ্ঞান
রেলের দু-রেখা হয়ে আছে:
একটি অন্ধ অদৃশ্যনামেই যার সকল আস্থা;
অন্যটি এগিয়ে চলে, অন্ধ তার হাত ধরে রাখে

যার কাছে প্রশ্নোত্তরে শুধু চোখরাঙানি, ধমক বেধড়ক
তার কাছে থামে নি সে-বালকের কৌতূহল ট্রেন
বরং ছুটেছে আরও দুর্বার…

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে
প্রগতিপথেই আজ যৌবন তার অমিত সম্ভাবনার
মানুষকে পৃথিবীকে আরও বেশি দেবার

হাত খুলে দিয়ে যাবে তাই
সীমানা পেরিয়ে যাবে এইভাবে আরও দূর নক্ষত্রপথে

পশ্চাতে পা রাখা অন্যজন নেবে তার সকল সুযোগ!

 

Error: View 0e2b7795t8 may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *