জীবন একটা আমরা পেয়েছি, পৃথিবীরই এই এক সময়ের গর্তে। কিন্তু এই কি জীবন? এই কি একটা জীবনের মতো জীবন, যে জীবনের ভেতর দিন-রাত চরিতেছে লাল তেলাপোকার আয়ু? রক্তচাপ আর বিরক্তচাপ আর শক্তচাপ ঘেরা স্নায়ু। স্নায়ুচাপ ঘেরা ক্লান্তকায় আয়ু।

আমি রজনীগন্ধার আত্মা ছুঁয়ে দেখার আর বকুলের আত্মা ছুঁয়ে দেখার যে কথা বলতে চেয়েছিলাম তা তোমার মনে আছে হয়তো। ঝগড়া করার বয়স পার হয়ে গেলেও, দিন-রাত আলো জ্বলে উঠলেও তেমন আর ফল নাই জীবনের এঁটো রস খেয়ে। কেন যে দেখা হয়ে যায় একজনের সাথে আর একজনের? আবার দেখা হয়ে যায় হঠাৎ বহুদিন পর, তখন মনে পড়ে যায়- হৃদয়ের ভেতর দিয়ে নিশ্চয়ই একদিন সাপ হেঁটে গিয়েছিল পূর্ণকলার দিকে।

আমি তোমাকে আর কখনো ‘স্বাধীন মানুষ’ অপবাদে দ-িত করব না। এসো মানুষ, কিছু খাবার খাও আর কিছুটা শান্ত হলে মন, হৃথিবীরঙের পোশাক পরে নিও। বহুমাইল হেঁটে যেতে হবে। সকাল সকাল সূর্যটা ধরতে পারলেই হয়। তুমি বললে- ‘সবাই যাচ্ছে স্বর্ণনগরের ট্রেন ধরতে আর তুমি কি-না সূর্যের মধু পান করতে চাও।’ তা হোক। আমি ভুলিনি সেই ড্রেন, সেই ডিসেম্বর, সেই আগুন, সেই কবরের মন আর আমাদের জীবনের যোগফলের লালবাতি।

মানুষ, তুমি কেমন আছ? তুমি কেমন থাকতে চাও? তুমি যেমন আছ তেমন যদি থাকতে চাইতে তা থাকতে পারতে না। যেমনভাবে- তুমি যেমন থাকতে চাও তেমন থাকতে পারছ না।

হাসপাতালের বেডে যেদিন ধান বোনার স্বপ্ন দেখেছিল কৃষক আর তাদের বুকগুলি গুলি খেয়েছিল ইউরিয়া সারের বস্তা হাতে পাবার আগে তখন কিন্তু তুমি কান্না থামাতে পারনি। আমি বলেছিলাম- ‘মানুষদের স্বপ্ন দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে এখানে, স্বপ্নের মূর্তি তৈরি হবে না কখনোই।’

ঈশ্বর যদি ক্যাপসুল আর ট্যাবলেট বোনার ক্ষমতা দিত, ওষুধ চাষ করতে তোমাদের আঙ্গিনায় কৃষকের মতো আর তোমার মাথায় মাথাল দেখে হাসতে হতো আমাকে। কলমকমল শুধু ফুটে থাকছে যন্ত্রণার ঝিলে।

জাম রস দিয়ে, কমলা রস দিয়ে, যেকোনো ফলের রস দিয়ে, যতই তুমি কালি বানিয়ে দাও আমাকে, তা দিয়ে আর লেখব না এক বিন্দুও। মানুষের ঘর পুড়ছে বোমায় বোমায়, মুখ পুড়ছে এসিডে এসিডে, বুক ফুটো হয়ে রক্ত ঝরছে, আমি কালি নেব সেখান থেকে। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্মশানগুলো থেকে সংগৃহীত বস্ত্রতে লিখতে চাই তোমার নাম, আমার নাম, পৃথিবীর নাম, ধর্ম গ্রন্থের নাম, নেতাদের নাম, সমস্ত কিছুর নাম, সমস্ত অকিছুর নাম, সমস্ত বিচ্ছুর নাম।

 

Error: View fb876cfshl may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *