আমি গিলগামেশ, আমি পোপোল বু; আমিই ইরাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মহেঞ্জোদারো। সত্তর হাজার পূর্বে শিকারের পশু কাঁধে যে দীর্ঘ রোমশ নগ্ন নিয়ানডার্থাল হাঁটছিল পাহাড়ে-অরণ্যে, সে-তো আমিই। দজলা ও ফোরাতের মাঝে যে মেসোপটেমিয়া, কীলকলিপিতে আঁকা যে সমাধি; এসবের মাঝে আমারও ছিলো- অতন্দ্র পদছাপ। ক্রিট কিংবা মিনোয়ান, শাং কিংবা ফারাও- এঁরা সকলেই আমার জ্ঞাতি; আমাকে ক্যানভাসে রেখেই ফিনিশীয়রা এঁকেছিল আধুনিক বর্ণমালার জ্যামিতি। ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগান কিংবা আলেকজান্দ্রিয়ার সেই আশ্চর্য বাতিঘর… এসব দেখতে দেখতে কতবার হারিয়েছি পারস্যের ঘাসে!

আর্যদের কাছে সিন্ধু হারিয়ে যে হরপ্পা-রমণী ঘর ছেড়েছিল, আমি তাঁর কান্না শুনেছি; রাক্ষস নামের কলঙ্ক বুকে যারা লঙ্কাকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, খা-ব-অরণ্যে যারা নির্বিচারে দগ্ধ হয়েছিল- আমি তো তাদেরই একজন। আমাকে দাবিয়ে রাখতেই বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে নিলো দ্রোণ, সূতপুত্র বলে গালি দিলো কুরু-পা-বেরা; আমাকেই বেদবিরোধী দস্যু নামে ডেকে ডেকে তৃপ্ত হলো কেউ। আমার কৈবর্তদিন কান্নার শিশিরে ভেজা মাটি…

কখনও বিজয়ী, কখনও বিজিত… হাসি-কান্নায় মোড়ানো অযুত বছর; তবু আমি ক্লান্ত নই, আশাহত নই; ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠি ভস্ম থেকে, জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের মতো স্বপ্নরা জেগে থাকে হৃদয়ে… একটি ফুল ঝরে গেলে জন্ম নেয় আরেকটি কুঁড়ি, একটা বৃক্ষ ভেঙে গেলে অঙ্কুরিত হয় আরেকটি সবুজ অরণ্য; আমিই হয়ে উঠি সভ্যতার অলম্বুষ কৃষাণ…

 

Error: View fb876cfshl may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *