এরকম অনেক রাত গেছে, ঘুমোবার বদলে ঘুম আঁকতে চেষ্টা করেছি; পারিনি। নৈঃশব্দ্যের জাগরণ আমাকে ঘিরে ধরেছিলো। রাত আঁকতে গিয়ে ভোর হয়ে গেলো; তবু আঁকা শেষ হলো না।

মানুষের দুঃখ আঁকা যায় না বলে- নদী আঁকতে চেষ্টা করেছিলাম একবার। কিন্তু সে বড় চঞ্চল! দাঁড়ালো না কিছুতেই! এমন ছটফটানি কী করে আঁকি বলুন তো!

বাতাস আঁকা যায় না বলে- আঁকলাম পাতা, শুকনো ঝরা পাতা। পাতাদের ওড়াউড়ি আঁকতেই ফুটে উঠলো বাতাসের দৃশ্যপট!

দূরবর্তী বন্দরের আলো যেমন সারেঙের চোখে ধরা দেয় গন্তব্যের মতো! তেমনি দেখেছিলাম তাঁকে। যার কথা ভাবতে গিয়ে একটা ঘর এঁকেছিলাম!

অথচ, অজস্ররাত পেরোলেও সে ঘরের বিছানায় কিছুতেই ঘুম আঁকতে পারলাম না…

ঘুম-২

বালিশের একাকিত্ব জানে নির্ঘুম রাত, রাতের নৈঃশব্দ্য জেনেছিলো ধ্যানমগ্ন কবি; এবং এ-ও জেনেছিলো ঘুম একটা অবাধ্য প্রহরের নাম।

রঙিন আঁকিবুঁকি বুকে নিয়ে পড়ে থাকে শূন্য বিছানা; বালিশের ভিতর জলপ্রপাতের শব্দ! বসে থাকাও যে একটা করুণ শিল্প! অপেক্ষার পায়চারি, ইতস্তত আলোছায়া আর মশাদের মহান সংগীত!

মানুষের ঘুমের সমান বয়সী নয় বালিশের গল্প, তবু বালিশেরা অপেক্ষা করে। যুদ্ধ আর প্রেম যেমন পাশাপাশি চলে; তেমনি ঘুমের সাথে বালিশের, অথবা রাতের সাথে নির্ঘুমের জমজ যাতায়াত।

 

Error: View fb876cfshl may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *