আবার শরৎ এলো, ভোরের দোয়েলের মতন শিষ দিতে দিতে; অথচ তাজমহল ভেঙে পড়বার দৃশ্য একে একে ভেসে উঠছে হৃদয়ে- বিষদষ্ট জলাশয়ে ভেসে ওঠা মাছের ধরনে। মানুষের পায়ের আঘাত তীব্র হয় জানি; হাতেরও। আঙুলে পাহাড় ধরেছেন কোনো কোনো পৌরাণিক বীর। কিন্তু তোমার পা-গুলো পদ্মের কোরক; হাতগুলো মোমের প্রদীপ- আলতো ছোঁয়াতেই গলে গলে পড়ে…

কোনো কোনো চরিত্র, কেউ কেউ দেবী বলেই জানে, অথচ বিষ ঝরে চোখে; কোনো কোনো দেবতার দৃষ্টিতে আমের মুকুলের মতো ঝরে পড়ে মাথা! কিন্তু তোমার চোখদুটো নরম মার্বেল পাথর, কখনওবা টলমলে জল; মায়ার সায়র।
কারো কারো ঠোঁটজোড়া ইটের টুকরো, কেউ কেউ বিষধর কীট; তোমার তো প্রজাপতি, উড্ডীন কমলার কোয়া; অপরূপ মোহ।
কথা নয়, কোনো কোনো মুখ থেকে ঝরে পড়ে আঁধার; কেউ কেউ তপ্ত দুর্বাসা, মুখ খুললেই লাভা, যেন জ¦লন্ত ফুজিয়ামা। তুমি তো অমরালোকের পাখি, কথাগুলো লতার কণ্ঠে গান।

তবুও তাজমহলটা ঝরে গ্যালো, ভূমিকম্পে যেমন উঁইয়ের ঢিবির মতো ঝরে পড়ে শহরের শিরদাঁড়া। সবকিছু ঝরে পড়ে, কীসের আঘাতে যে, আজও তা পেলো না খুঁজে প্রত্নতত্ত্ব মন। মহলশূন্য কেটে যায় রাজকীয় ফকির জীবন।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *