শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ’লো তার সাধ।

বধু শুয়েছিলো পাশে- শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিল, আশা ছিল- জ্যোৎস্নায়,- তবু সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম ভেঙে গেলো তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল- লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার ।

এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি !
রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি
আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার;
কোনোদিন জাগিবেনা আর।

‘কোনদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম-অবিরাম ভার
সহিবে না আর -’
এই কথা বলেছিলো তারে,
চাঁদ ডুবে চ’লে গেলে- অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মত কোনো-এক নিস্তব্ধতা এসে ।
তবুও তো প্যাঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায়- অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে ।

টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
চারিদিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা;
মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থাকে জীবনের স্রোত ভালবেসে ।
রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি ;
সোনালী রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কত দেখিয়াছি ।
ঘনিষ্ট আকাশ যেন, কোন বিকীর্ণ জীবন
অধিকার ক’রে আছে ইহাদের মন;
দূরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ
মরণের সাথে লড়িয়াছে;
চাঁদ ডুবে গেলে ’পরে প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বত্থের কাছে
একগাছা দড়ি হাতে নিয়ে গিয়েছিলে তবু একা-একা,
যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের- মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা
এই জেনে।

অশ্বথের শাখা
করেনি কি প্রতিবাদ? জোনাকির ভিড় এসে সোনালি ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে
করেনি কি মাখামাখি ?
থুরজথুরে অন্ধ প্যাঁচা এসে
বলেনি কি ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনজলে ভেসে?
চমৎকার! —
ধরা যাক দু’-একটা ইঁদুর এবার !’
জানায়নি প্যাঁচা তুমুল গাঢ় সমাচার ?
জীবনের এই স্বাদ- সুপক্ক যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের-
_______________________তোমার অসহ্য বোধ হ’লো;-
মর্গে কি হৃদয় জুড়ালো
মর্গে- গুমোটে
থ্যাঁতা ইদুরের মত রক্তমাখা ঠোটে !
শোনো
তবু এ-মৃতের গল্প;- কোনো
নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ।
সময়ের উদ্ধর্তনে উঠে এসে বধূ
মধু – আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাড়হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ-জীবন কোনোদিন কেঁপে ওঠে নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের ’পরে।

জানি- তবু জানি
নারীর হৃদয়- প্রেম- শিশু- গৃহ- নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয়-
আরো-এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত-ক্লান্ত করে ;
লাশকাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের ’পরে।

তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
থুরথুরে অন্ধ প্যাঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে,
চোখ পালটায়ে কয়ঃ ‘ বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?
চমৎকার! —
ধরা যাক দু’-একটা ইঁদুর এবার –’

হে প্রগাঢ় পিতামহী আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হবো- বুড়ি চাঁদটারে আমি
ক’রে দেবো- কালীদহে বেনোজলে পার;
আমরা দু’জনে মিলে শূন্য ক’রে চ’লে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।

Error: View 9a05e18gc5 may not exist

আপনি যদি কবিতার আকাশে লিখতে চান তাহলে রেজিস্ট্রেশন করুন

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *