কই যাও চন্দ্রমোহন?
তোমার ক্ষ্যাত, তোমার পুষ্কুন্নী, তোমার
আম-জাম, কাঁঠাল, কলা, নারকেল ঘেরা
বাড়ি, উঠোন হলুদ গাঁদা, নীল
সন্ধ্যামালতি, বাঁধানো তুলসী মঞ্চ,
গোয়াল ঘর, তোমার রাজ্যপাট
কালাইয়া রাইতের আন্ধারে
কই যাও? ক্যান
যাইতে হয়!

বক্কেশর পন্ডিতের কথা মনে পড়ে?
দ্বাপর যুগ সমাপ্ত হইলে প্রজাপতি
ব্রক্ষ্মার পৃষ্ঠদেশে অধম্যের জন্ম হইল।
মিথ্যা হইল অধর্মের সহধর্মিনী।
দম্ভ তাহাদের পুত্র। দম্ভ আপন
সহোদরা মায়াকে বিবাহ করিল এবং
তাহাদের লোভ নামে এক পুত্র
জন্মগ্রহণ করিল। লোভও
ভগিনীগমন করে, ফলত তাহাদের
ক্রোধ নামে এক পুত্র এবং হিংসা
নাম্নী এক কন্যার জন্ম হয়
মনে পড়ে চন্দ্রমোহন? বক্কেশর পণ্ডিত
সেই কোনকালে চিতাখোলার ছাই
হইয়া পঞ্চভূতে মিশ্যা গেছে। কথা
মিশে নাই। মুনি ঋষিগো বাণী তো
জগতে রইয়া যায়। দম্ভ আর
মায়ার বিয়া আইজও হয়, লোভ
নামের পুত্রের জন্মও কেউ ঠেকাইতে
পারে না ।
তাই তো চন্দ্রমোহন। রাইতের আন্ধারে
চৌদ্দ পুরুষের ভিটা ছাইড়া নদীর
জলে চক্ষের জল মিশাইয়া নির্বাসনে
যাইতে হয়। ভাইস্যা যায়গো নদীর
জলে প্রতিমা ভাইস্যা যায়।
বড় দুঃখ চন্দ্রমোহন, বড় কষ্ট!
তবু মাটির বড় মায়া। রাইত নাই
দিন নাই মাথার ভিতরে বুকের ভিতরে
খালি পাড় ভাঙ্গে। নদী খালি
কল-কল-কল-কল কইরা বইয়া যায়।
চন্দ্রমোহন, মনে পড়ে আশ্বিন মাসের সেই পূজা!
ভরা বর্ষার আন্ধারে রাইতে মাঠ বিল
ভইরা লণ্ঠনের আলো। কালো কালো
মানুষের হাতে ট্যাটা আর কোচ।
মাছ, জলের জিন বড় তড়পায়।
আহারে মাছ। সেই নদী মনে পড়ে
চন্দ্রমোহন? বর্ষার নদী। আশ্বিনের
নদী। কাশবন। শিতের পিঠা।
নবান্ন। মনে পড়ে।
তবে, কই যাও চন্দ্রমোহন? রাইতের আন্ধারে
রাজ্যপাঠ ছাইড়া কোন নির্বাসনে
যাও নদীর জলে চক্ষের জল মিশাইয়া।
চন্দ্রমোহন, ইংরাজ গেল, কিন্তু
তোমারে ক্যান নির্বাসনে যাইতে অয়।
দ্যাশ অইলো জননী। জননী ক্যান
সন্তান বিসর্জন দেয়।
’৭১ এর যুদ্ধের কথা মনে
পড়ে? মানুষের কী কষ্ট!
প্রাণের কী মায়া। লাখো লাখো
মানুষ। রক্ত। আগুন। ভয়।
কান্না। দীর্ঘশ্বাস! অতঃপর
স্বাধীন হইলো দ্যাশ। হায় রে স্বাধীন!
আমরা য্যান কোনো রাক্ষসের প্যাটের
মইদ্যে আছি। আমাগো চোখ,
নাই। শরীর নাই। কেবল
মাংসের তাল। হিংসা আর
লোভের তাল।
চন্দ্রমোহন, এখনো এতকিছুর
পরও ক্যান নিজের শিকড়ে টান
পড়ে? এখনো ক্যান নিজের শিকড়ে টান
পড়ে? এখনো ক্যান সন্ত্রস্ত
থাকতে হয় সদা, দ্যাশ তো স্বাধীন।
তবুও ক্যান তুমি হও ভীত।
কেবল এই জন্যে যে- তোমার
নাম চন্দ্রমোহন?

Error: View 025c329dwl may not exist

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *